হাত ঝিনঝিন করে বা রাতে আঙুল অবশ হয়ে ঘুম ভেঙে যায়? আঙুল ভাঁজ করার পরে সোজা করতে কষ্ট হয়? কবজিতে গুটি কিংবা হাতের শক্তি কমে যাওয়ার সমস্যাও দৈনন্দিন কাজে বাধা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতাল লিমিটেডে হাত ও কবজির স্নায়ু, টেন্ডন এবং নড়াচড়ার সমস্যা মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থোপেডিক চিকিৎসা ও সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়।
অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
হাত ও কবজির চিকিৎসার বিকল্প দেখুন
হাত বা আঙুলে ঝিনঝিন, অবশভাব কিংবা জ্বালাপোড়া।
রাতে হাতের অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
আঙুল ভাঁজ বা সোজা করতে আটকে যাওয়া।
কবজি বা আঙুলের গোড়ায় গুটি দেখা দেওয়া।
জিনিস ধরতে দুর্বল লাগা বা হাত থেকে পড়ে যাওয়া।
আঘাতের পরে আঙুল পুরোপুরি ভাঁজ বা সোজা করতে না পারা।
এসব লক্ষণের কারণ এক নয়। যেমন, হাত অবশ হওয়ার পেছনে কবজির স্নায়ুতে চাপ ছাড়াও ঘাড়ের স্নায়ু বা অন্য শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে।
কবজির সরু পথ দিয়ে যাওয়া মিডিয়ান স্নায়ুতে চাপ পড়লে কারপাল টানেল সিনড্রোম হয়। এতে সাধারণত বুড়ো আঙুল, তর্জনী, মধ্যমা এবং অনামিকার একাংশে ঝিনঝিন বা অবশভাব দেখা দেয়।
প্রথমে সমস্যা মাঝে মাঝে হতে পারে, বিশেষ করে রাতে। পরে বোতাম লাগানো, ছোট জিনিস ধরা বা হাতে শক্তি প্রয়োগ করা কঠিন লাগতে পারে। ডায়াবেটিস, গর্ভাবস্থা ও কবজির ওপর বারবার চাপ পড়াসহ বিভিন্ন বিষয় এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
খেয়াল করবেন: অবশভাব স্থায়ী হলে, হাতের শক্তি কমলে বা জিনিস পড়ে গেলে মূল্যায়ন করান। দীর্ঘদিন স্নায়ুতে চাপ থাকলে অনুভূতি ও পেশির কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আঙুল বাঁকানোর টেন্ডন তার চলার পথ দিয়ে স্বাভাবিকভাবে নড়তে না পারলে ট্রিগার ফিঙ্গার হতে পারে। এতে আঙুল ভাঁজ বা সোজা করার সময় আটকে যায়, কখনো খট করে ছেড়ে আসে।
সকালে শক্তভাব বেশি থাকতে পারে। আঙুলের গোড়ায়, তালুর দিকে ব্যথা বা ছোট গুটির মতো অনুভূতিও হতে পারে। সমস্যা বাড়লে আঙুল বাঁকা অবস্থায় আটকে থাকতে পারে। বুড়ো আঙুলেও এটি হয়।
খেয়াল করবেন: বারবার আটকে গেলে বা সোজা করতে অন্য হাতের সাহায্য লাগলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। জোর করে আঙুল টানবেন না।
গ্যাংলিয়ন হলো জয়েন্ট বা টেন্ডনের আবরণের কাছে তৈরি হওয়া তরলভর্তি গুটি। এটি ক্যানসার নয়। তবে হাত বা কবজির সব গুটিই গ্যাংলিয়ন নয়, তাই নতুন গুটির পরিচয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
গুটির আকার কখনো বাড়ে, কখনো কমে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা থাকে না। আবার কবজি ব্যবহার করলে অস্বস্তি হতে পারে বা আশপাশের স্নায়ুতে চাপ পড়লে ঝিনঝিন অনুভূত হতে পারে।
খেয়াল করবেন: গুটি বড় হলে, ব্যথা করলে বা হাতের কাজে বাধা দিলে পরীক্ষা করান। নিজে সুচ দিয়ে ফোটানো বা আঘাত করে গুটি ভাঙার চেষ্টা করবেন না।
টেন্ডন পেশিকে হাড়ের সঙ্গে যুক্ত করে আঙুল ও কবজি নাড়াতে সাহায্য করে। ধারালো কিছুতে কেটে যাওয়া, খেলাধুলার আঘাত বা হঠাৎ টানে টেন্ডন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আঘাতের জায়গা অনুযায়ী আঙুল ভাঁজ বা সোজা করতে সমস্যা হয়। ব্যথা, ফোলা কিংবা আঙুলের স্বাভাবিক অবস্থান বদলে যেতে পারে। টেন্ডন আংশিক কাটা থাকলে কিছুটা নড়াচড়া সম্ভব হলেও ক্ষতি থাকতে পারে।
খেয়াল করবেন: হাত কেটে যাওয়ার পরে আঙুল নড়াতে সমস্যা হলে ক্ষত ছোট দেখালেও দ্রুত চিকিৎসা নিন। সঙ্গে স্নায়ু বা রক্তনালির আঘাতও থাকতে পারে।
হাত কেটে যাওয়ার পরে আঙুল ভাঁজ বা সোজা করতে না পারলে।
আঘাতের পরে আঙুল অবশ, ঠান্ডা, ফ্যাকাশে বা নীলচে হলে।
পরিষ্কার কাপড় দিয়ে সরাসরি চাপ দেওয়ার পরও রক্তপাত না থামলে।
ক্ষতের চারপাশে লালভাব, ফোলা, পুঁজ বা জ্বর দেখা দিলে।
আঘাতের পরে হাত বা আঙুলের আকৃতি বদলে গেলে।
চিকিৎসক কোন আঙুলে সমস্যা হচ্ছে, কখন বাড়ে, আঘাত লেগেছে কি না এবং কাজের ধরন সম্পর্কে জানবেন। এরপর হাতের অনুভূতি, পেশির শক্তি, টেন্ডনের নড়াচড়া ও গুটির বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করবেন।
প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে, আল্ট্রাসাউন্ড বা স্নায়ুর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হতে পারে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে MRI প্রয়োজন হয়। সব সমস্যার জন্য সব পরীক্ষা লাগে না।
লেখালেখি, পোশাক পরা, রান্না কিংবা পেশাগত কাজে হাতের সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও অনুভূতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই হাত ও কবজির চিকিৎসায় ব্যথার পাশাপাশি মুঠোর শক্তি, আঙুলের কার্যক্ষমতা এবং কাজে ফেরার প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়।
বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালের অর্থোপেডিক সেবায় কারপাল টানেল সিনড্রোম, ট্রিগার ফিঙ্গার, গ্যাংলিয়ন সিস্ট ও টেন্ডনের আঘাতের চিকিৎসার বিকল্প মূল্যায়ন করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী স্প্লিন্ট, হ্যান্ড থেরাপি অথবা স্নায়ুর চাপ কমানো, ট্রিগার ফিঙ্গার রিলিজ ও টেন্ডন রিপেয়ারের মতো সার্জারি নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।
হাত ও কবজির চিকিৎসা ও সার্জারি সম্পর্কে জানুন
না। এটি একটি সম্ভাব্য কারণ। কোন আঙুল অবশ হচ্ছে, সঙ্গে দুর্বলতা আছে কি না এবং পরীক্ষার ফল দেখে কারণ নির্ধারণ করা হয়।
সব ক্ষেত্রে নয়। সমস্যার তীব্রতা ও স্থায়িত্ব অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারিত হয়। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারবিহীন চিকিৎসায় উপকার পাওয়া যায়।
না। নিশ্চিত গ্যাংলিয়ন সিস্টে ব্যথা বা কাজে বাধা না থাকলে পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট হতে পারে। তবে নতুন গুটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
সবসময় নয়। টেন্ডন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নড়াচড়া থাকতে পারে। কাটার পরে ব্যথা, দুর্বলতা বা আটকে যাওয়ার সমস্যা থাকলে মূল্যায়ন প্রয়োজন।
হাতের অবশভাব, আঙুল আটকে যাওয়া বা দুর্বলতার কারণে স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হলে সমস্যার কারণ জানতে পরামর্শ নিন।