Welcome to Bangladesh OrthoCare Hospital LTD.

Get Location

24/7 Emergency

Bone & Soft Tissue Tumors

Explore the conditions we treat and learn how our specialists can help

হাড় ও জয়েন্টের সংক্রমণ: ব্যথা, ফোলা ও ক্ষত থেকে পুঁজ পড়া

হঠাৎ একটি জয়েন্ট ফুলে গরম হয়ে গেছে? পুরোনো অপারেশনের ক্ষত শুকাচ্ছে না বা বারবার পুঁজ পড়ছে? হাড় ও জয়েন্টের সংক্রমণ কখনো দ্রুত শুরু হয়, আবার কখনো দীর্ঘদিনের ব্যথা বা ক্ষত হিসেবে দেখা দেয়। জ্বর না থাকলেও সংক্রমণ থাকতে পারে।

বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতাল লিমিটেডে হাড়, জয়েন্ট এবং অর্থোপেডিক ইমপ্লান্টের সংক্রমণ মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়। লক্ষ্য থাকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হাড়ের স্থিতিশীলতা ও চলাফেরার সক্ষমতা রক্ষা করা।

হাড় ও জয়েন্টের সংক্রমণে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন 

হঠাৎ গরম ও ফোলা জয়েন্ট হলে অপেক্ষা করবেন না

তীব্র ব্যথার সঙ্গে জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, গরম লাগা এবং নড়াতে কষ্ট হওয়া সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে জ্বর, কাঁপুনি বা অসুস্থ লাগলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

শিশু হঠাৎ পায়ে ভর দিতে না চাইলে বা হাত ব্যবহার বন্ধ করলে, বিশেষ করে সঙ্গে জ্বর থাকলে, জরুরি মূল্যায়ন প্রয়োজন। সংক্রমণ সন্দেহ হলে শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে উপসর্গ কমার অপেক্ষা করবেন না।

সংক্রমণ কোথায় হয়েছে, তা বোঝা কেন জরুরি?

হাড়ের সংক্রমণ, জয়েন্টের ভেতরের সংক্রমণ এবং প্লেট-স্ক্রু বা কৃত্রিম জয়েন্টের সংক্রমণের চিকিৎসা এক নয়। একই ব্যক্তির একাধিক অংশও আক্রান্ত হতে পারে। তাই সংক্রমণের স্থান, বিস্তার ও জীবাণু শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

হাড়ের সংক্রমণ (Osteomyelitis)

অস্টিওমায়েলাইটিসে জীবাণু হাড়ে সংক্রমণ ঘটায়। রক্তের মাধ্যমে, গভীর ক্ষত থেকে অথবা খোলা ফ্র্যাকচার ও অপারেশনের সঙ্গে সম্পর্কিতভাবে এটি হতে পারে।

এক জায়গায় স্থায়ী ব্যথা, ফোলা, গরমভাব বা ক্ষত থেকে পুঁজ পড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণে ক্ষত কিছুদিন বন্ধ হয়ে আবার খুলে যেতে পারে। কখনো হাড় জোড়া লাগার প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়।

মনে রাখবেন: পুঁজ পড়া বন্ধ হওয়া মানেই হাড়ের সংক্রমণ সেরে গেছে, এমন নয়। বারবার একই জায়গায় ক্ষত হলে কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

জয়েন্টের ভেতরের সংক্রমণ (Septic Arthritis)

সেপটিক আর্থ্রাইটিসে জয়েন্টের ভেতরে জীবাণুর সংক্রমণ হয়। হাঁটু, হিপ, কাঁধসহ বিভিন্ন জয়েন্ট আক্রান্ত হতে পারে।

সাধারণত দ্রুত বাড়তে থাকা ব্যথা, ফোলা এবং নড়াচড়ায় তীব্র কষ্ট হয়। পায়ের জয়েন্ট আক্রান্ত হলে ভর দেওয়া কঠিন হতে পারে। জ্বর থাকতে পারে, তবে জ্বর না থাকলেও সংক্রমণ বাদ যায় না।

মনে রাখবেন: এটি দ্রুত চিকিৎসার বিষয়। দেরি হলে জয়েন্টের ক্ষতি হতে পারে। গাউট বা অন্য প্রদাহজনিত সমস্যার সঙ্গে লক্ষণ মিলতে পারে বলে পরীক্ষা ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

প্লেট, স্ক্রু ও কৃত্রিম জয়েন্টের সংক্রমণ (Implant-Related Infections)

হাড় জোড়া লাগানোর প্লেট, স্ক্রু, রড অথবা হিপ ও হাঁটুর কৃত্রিম জয়েন্টের আশপাশে সংক্রমণ হতে পারে। অপারেশনের পরপরই বা অনেক পরে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ক্ষত না শুকানো, পুঁজ পড়া, ব্যথা ও ফোলা বাড়া অথবা আগে ভালো থাকা জয়েন্টে নতুন ব্যথা এর লক্ষণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ইমপ্লান্ট ঢিলা হওয়া বা হাড় জোড়া না লাগার সমস্যাও থাকে।

মনে রাখবেন: সংক্রমণ হলেই সব ইমপ্লান্ট খুলতে হয় না। সংক্রমণ কতদিনের, ইমপ্লান্ট কতটা স্থিতিশীল এবং হাড় জোড়া লেগেছে কি না, এসব দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কোন তথ্যগুলো চিকিৎসককে জানাবেন?

আগের চিকিৎসার তথ্য সংক্রমণের কারণ বুঝতে সাহায্য করে। পরামর্শের সময় সঙ্গে রাখুন:

  • অপারেশনের কাগজপত্র ও পুরোনো এক্স-রে।

  • ক্ষত বা পুঁজ পড়া কখন শুরু হয়েছে তার তথ্য।

  • আগে করা কালচার ও অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট।

  • ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের নাম ও কতদিন খেয়েছেন।

  • ডায়াবেটিস, রক্ত চলাচলের সমস্যা বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমায় এমন রোগ ও ওষুধের তথ্য।

নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু, বদল বা বন্ধ করবেন না। এতে জীবাণু শনাক্ত ও সঠিক চিকিৎসা নির্বাচন কঠিন হতে পারে।

সংক্রমণ নিশ্চিত করতে কী পরীক্ষা করা হয়?

চিকিৎসক ক্ষত, জয়েন্টের নড়াচড়া, হাড়ের স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করেন। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে বা অন্য ইমেজিং করা হয়।

জয়েন্টের তরল বা গভীর টিস্যুর নমুনা পরীক্ষা করে জীবাণু ও কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। শুধু বাইরের ক্ষতের নমুনা দিয়ে গভীর সংক্রমণের পুরো চিত্র সবসময় বোঝা যায় না।

নমুনা সংগ্রহ ও অ্যান্টিবায়োটিক শুরুর সময় চিকিৎসক নির্ধারণ করেন। গুরুতর অসুস্থ রোগীর জরুরি চিকিৎসা পরীক্ষার অপেক্ষায় বিলম্ব করা হয় না।

বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালে সংক্রমণের মূল্যায়ন ও চিকিৎসা

হাড় ও জয়েন্টের সংক্রমণে শুধু ক্ষত শুকানো নয়, সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রান্ত অংশের কার্যক্ষমতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালের অর্থোপেডিক সেবায় রোগীর আগের অপারেশন, হাড়ের অবস্থা ও সংক্রমণের বিস্তার অনুযায়ী চিকিৎসার বিকল্প মূল্যায়ন করা হয়।

প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক, জয়েন্টের পুঁজ নিষ্কাশন, সংক্রমিত বা মৃত টিস্যু অপসারণ এবং ইমপ্লান্ট সংরক্ষণ বা পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়। জটিল ক্ষেত্রে একাধিক ধাপে চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।

হাড় ও জয়েন্টের সংক্রমণের চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন #

রোগী ও পরিবারের সাধারণ প্রশ্ন

জ্বর না থাকলেও কি হাড়ে ইনফেকশন থাকতে পারে?

হ্যাঁ। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী বা ইমপ্লান্টের সংক্রমণে জ্বর স্পষ্ট নাও হতে পারে। স্থায়ী ব্যথা, ক্ষত না শুকানো বা পুঁজ পড়াও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

অপারেশনের জায়গা থেকে পুঁজ পড়া কি স্বাভাবিক?

না। পুঁজ পড়া বা নতুন করে ক্ষত খুলে যাওয়া হলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান। নিজে চেপে পুঁজ বের করা বা ক্ষতে অনির্ধারিত কিছু লাগাবেন না।

শুধু অ্যান্টিবায়োটিকেই কি সংক্রমণ সেরে যায়?

কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ যথেষ্ট হতে পারে। তবে পুঁজ, মৃত হাড় বা সংক্রমিত টিস্যু থাকলে সার্জারিও প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসা সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

প্লেট বা কৃত্রিম জয়েন্টে ইনফেকশন হলে কি আবার অপারেশন লাগবে?

কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। ইমপ্লান্ট রেখে পরিষ্কার করা, বদলানো বা ধাপে ধাপে পুনর্গঠনের মধ্যে কোনটি উপযুক্ত, তা মূল্যায়নের পরে নির্ধারিত হয়।

দীর্ঘদিনের ক্ষত বা বারবার পুঁজ পড়া অবহেলা করবেন না

পুরোনো ফ্র্যাকচার বা অপারেশনের জায়গায় ব্যথা, ফোলা কিংবা ক্ষত ফিরে এলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। হঠাৎ গরম-ফোলা জয়েন্ট, তীব্র ব্যথা বা জ্বরসহ অসুস্থতা থাকলে সরাসরি জরুরি বিভাগে যান।

বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন #