হাঁটতে, সিঁড়ি উঠতে কিংবা হাঁটু ভাঁজ করে বসতে ব্যথা হচ্ছে? হাঁটু ফুলে যাচ্ছে, আটকে যাচ্ছে অথবা পায়ে ভর দিলে ভরসা পাচ্ছেন না? হাঁটুর জয়েন্টের ক্ষয়, লিগামেন্ট বা মেনিস্কাসের আঘাতসহ বিভিন্ন কারণে এসব সমস্যা হতে পারে।
বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতাল লিমিটেডে হাঁটুর রোগ ও আঘাতের মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থোপেডিক চিকিৎসা ও সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনার সমস্যার কারণ, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন বুঝে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়।
অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। হাঁটুর চিকিৎসা ও সার্জারি সম্পর্কে জানুন
হাঁটুর সমস্যা সবসময় একইভাবে শুরু হয় না। কারও ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়ে, আবার কারও আঘাত বা মোচড় লাগার পরে সমস্যা দেখা দেয়। খেয়াল করুনঃ-
হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা-নামা বা বসা থেকে উঠতে ব্যথা হচ্ছে কি না।
হাঁটু ভাঁজ করে বসতে বা নামাজ পড়তে অসুবিধা হচ্ছে কি না।
হাঁটু ফুলে যাচ্ছে বা শক্ত হয়ে থাকছে কি না।
হাঁটু পুরোপুরি সোজা বা ভাঁজ করতে পারছেন কি না।
হাঁটার সময় হাঁটু হঠাৎ ছেড়ে দিচ্ছে বা অস্থির লাগছে কি না।
ব্যথার সঙ্গে শব্দ, আটকে যাওয়া বা নড়াচড়ায় বাধা হচ্ছে কি না।
এসব লক্ষণ একাধিক রোগে দেখা দিতে পারে। শুধু লক্ষণ মিলিয়ে রোগ নির্ধারণ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
হাঁটুর জয়েন্টের মসৃণ আবরণ বা কার্টিলেজে পরিবর্তন ও ক্ষয় হলে অস্টিওআর্থ্রাইটিস হতে পারে। সাধারণভাবে অনেকে একে “হাঁটুর ক্ষয়” বলেন।
সমস্যা ধীরে ধীরে শুরু হতে পারে। হাঁটাচলা, সিঁড়ি ভাঙা বা দীর্ঘক্ষণ কাজের সময় ব্যথা হয়। কিছুক্ষণ বসে থাকার পরে হাঁটু শক্ত লাগতে পারে। সমস্যা বাড়লে দৈনন্দিন চলাফেরা এবং হাঁটু ভাঁজ বা সোজা করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
কখন মূল্যায়ন প্রয়োজন?
ব্যথা বারবার ফিরে এলে, হাঁটার দূরত্ব কমে গেলে অথবা স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা তৈরি হলে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। শুধু ব্যথার মাত্রা দিয়ে হাঁটুর ক্ষয়ের পর্যায় নির্ধারণ করা যায় না।
ACL হাঁটুকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। খেলাধুলার সময় হঠাৎ দিক পরিবর্তন, লাফ থেকে নামা বা হাঁটু মোচড়ানোর ঘটনায় এই লিগামেন্টে আঘাত লাগতে পারে।
আঘাতের সময় হাঁটুতে কিছু ছিঁড়ে যাওয়ার অনুভূতি বা শব্দ হতে পারে। এরপর ব্যথা, ফোলা এবং হাঁটুতে ভরসা না পাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কখন মূল্যায়ন প্রয়োজন?
আঘাতের পরে হাঁটু ফুলে গেলে, হাঁটার সময় বারবার ছেড়ে দিলে অথবা খেলাধুলায় ফিরতে অস্থিরতা অনুভব করলে পরীক্ষা প্রয়োজন। ব্যথা কমে গেলেই লিগামেন্টের সমস্যা পুরোপুরি সেরে গেছে-এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
মেনিস্কাস হাঁটুর ভেতরে থাকা একটি বিশেষ ধরনের কার্টিলেজ, যা চাপ বণ্টন ও স্থিতিশীলতায় সাহায্য করে। হাঁটু মোচড়ানো বা খেলাধুলার আঘাতে এটি ছিঁড়তে পারে। বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণেও মেনিস্কাসে সমস্যা হতে পারে।
হাঁটুর ভেতর বা বাইরের দিকে ব্যথা, ফোলা, আটকে যাওয়ার অনুভূতি এবং পুরোপুরি সোজা করতে অসুবিধা হতে পারে।
কখন মূল্যায়ন প্রয়োজন?
হাঁটু বারবার আটকে গেলে, ব্যথা ও ফোলা ফিরে এলে অথবা নড়াচড়া সীমিত হয়ে গেলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। হাঁটু আটকে গিয়ে সোজা করতে না পারলে দ্রুত মূল্যায়ন প্রয়োজন।
হাঁটুর সামনের বাটি বা প্যাটেলা স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে গেলে অথবা বারবার সরে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে এই সমস্যা দেখা দেয়।
হাঁটুর সামনের দিকে ব্যথা, ফোলা, বাটি সরে যাওয়ার অনুভূতি অথবা হাঁটু ভাঁজ করতে ভয় লাগতে পারে। কারও প্রথমবার আঘাতের পরে, আবার কারও একই সমস্যা একাধিকবার হয়।
কখন মূল্যায়ন প্রয়োজন?
বাটি সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটলে বা বারবার অস্থিরতা অনুভব করলে পরীক্ষা প্রয়োজন। হাঁটুর আকৃতি বদলে গেলে বা বাটি সরে থাকা অবস্থায় নিজে ঠিক করার চেষ্টা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
হাঁটুর ব্যথা শুধু ক্ষয়, লিগামেন্ট বা মেনিস্কাসের সমস্যায় হয় না। হাঁটুর সামনের ব্যথা, টেন্ডনের সমস্যা, বার্সাইটিস, প্রদাহজনিত বাত, গাউট এবং সংক্রমণও এর কারণ হতে পারে।
ব্যথার অবস্থান, শুরু হওয়ার ধরন, আঘাতের ইতিহাস এবং সঙ্গে থাকা লক্ষণগুলো সঠিক কারণ বুঝতে সাহায্য করে।
নিচের সমস্যাগুলো হলে নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিনঃ
হাঁটুতে তীব্র ব্যথা এবং পায়ে ভর দিতে না পারা।
আঘাতের পরে অনেক ফোলা বা হাঁটুর আকৃতি বদলে যাওয়া।
হাঁটু আটকে গিয়ে নড়াতে বা সোজা করতে না পারা।
জ্বরের সঙ্গে হাঁটু লাল, গরম ও ফুলে যাওয়া।
অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ প্রথমে আপনার সমস্যার ইতিহাস এবং হাঁটুর অবস্থা মূল্যায়ন করেন। ব্যথা কোথায়, কত দিন ধরে হচ্ছে, আঘাত লেগেছিল কি না এবং কোন কাজে অসুবিধা বাড়ে-এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
শারীরিক পরীক্ষায় হাঁটুর নড়াচড়া, ফোলা, স্থিতিশীলতা এবং ব্যথার স্থান দেখা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে, MRI বা অন্যান্য পরীক্ষা দেওয়া হতে পারে। সব হাঁটু ব্যথার জন্য একই পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না।
একজন খেলোয়াড়ের হাঁটুর অস্থিরতা এবং একজন বয়স্ক মানুষের ক্ষয়জনিত হাঁটু ব্যথার প্রয়োজন এক নয়। তাই হাঁটুর চিকিৎসায় রোগের নামের পাশাপাশি বয়স, কাজ, শারীরিক সক্রিয়তা ও দৈনন্দিন অসুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালের অর্থোপেডিক সেবায় হাঁটুর ক্ষয়জনিত রোগ, লিগামেন্ট ও মেনিস্কাসের আঘাত এবং জয়েন্টের অস্থিরতার জন্য চিকিৎসার বিকল্প নিয়ে পরামর্শ পাওয়া যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারবিহীন চিকিৎসা, পুনর্বাসন অথবা সার্জারির উপযোগিতা মূল্যায়ন করা হয়।
হাঁটুর চিকিৎসা ও সার্জারির বিকল্প দেখুন
না। লিগামেন্ট বা মেনিস্কাসের আঘাত, টেন্ডনের সমস্যা, প্রদাহ এবং অন্যান্য কারণেও হাঁটু ব্যথা হতে পারে। কারণ জানতে সমস্যার ইতিহাস ও পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু ব্যথাহীন শব্দ সবসময় রোগের লক্ষণ নয়। তবে শব্দের সঙ্গে ব্যথা, ফোলা, আটকে যাওয়া বা অস্থিরতা থাকলে মূল্যায়ন প্রয়োজন।
সিঁড়িতে হাঁটুর ওপর চাপ বাড়ায় কিছু সমস্যা বেশি অনুভূত হতে পারে। তবে শুধু এই লক্ষণ দেখে নির্দিষ্ট রোগ বলা যায় না।
না। চিকিৎসক আপনার ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন। অনেক ক্ষেত্রে এক্স-রে প্রয়োজন হতে পারে; নির্দিষ্ট সমস্যার মূল্যায়নে MRI ব্যবহার করা হয়।
না। অনেক সমস্যায় অস্ত্রোপচারবিহীন চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ভূমিকা থাকে। অপারেশনের প্রয়োজন রোগের ধরন, তীব্রতা, কার্যক্ষমতা এবং আগের চিকিৎসার ফল অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
হাঁটুর ব্যথা বা অস্থিরতার কারণে চলাফেরা, কাজ কিংবা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে সমস্যার কারণ জানতে পরামর্শ নিন।
বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতাল লিমিটেডে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।