পড়ে যাওয়ার পরে পিঠে তীব্র ব্যথা হচ্ছে? দীর্ঘদিনের পিঠব্যথার সঙ্গে জ্বর, ওজন কমা বা পায়ের দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে? মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙা, সংক্রমণ ও টিউমারের লক্ষণ কখনো কাছাকাছি হতে পারে। তাই ব্যথার কারণ বোঝার পাশাপাশি স্নায়ুর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা জরুরি।
বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতাল লিমিটেডে মেরুদণ্ডের আঘাত, হাড়ের দুর্বলতাজনিত ফ্র্যাকচার এবং সংক্রমণ ও টিউমারজনিত সমস্যার মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মেরুদণ্ডের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
মেরুদণ্ডের চিকিৎসা ও সার্জারি সম্পর্কে জানুন
দুর্ঘটনা বা পড়ে যাওয়ার পরে ঘাড়, পিঠ বা কোমরে ব্যথা।
সামান্য আঘাতের পরেও নতুন করে তীব্র পিঠব্যথা।
বিশ্রামেও না কমা বা ক্রমশ বাড়তে থাকা ব্যথা।
পিঠব্যথার সঙ্গে জ্বর, রাতের ঘাম বা অকারণে ওজন কমা।
হাত বা পায়ে অবশভাব, দুর্বলতা কিংবা হাঁটার পরিবর্তন।
উচ্চতা কমে যাওয়া বা পিঠ কুঁজো হয়ে আসা।
এসব লক্ষণ থাকলেই সংক্রমণ বা টিউমার হয়েছে, এমন নয়। তবে কারণ না জেনে শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করা ঠিক নয়।
সড়ক দুর্ঘটনা, উঁচু থেকে পড়ে যাওয়া বা বড় আঘাতে কশেরুকা ভাঙতে কিংবা স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে যেতে পারে। কিছু আঘাতে মেরুদণ্ড অস্থিতিশীল হয়ে স্নায়ু বা স্পাইনাল কর্ডের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।
তীব্র ব্যথা, নড়াচড়ায় অসুবিধা এবং কখনো অবশভাব বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তবে হাত-পা নড়াতে পারলেই মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত নেই, এমন ধরে নেওয়া যাবে না।
খেয়াল করবেন: বড় আঘাতের পরে মেরুদণ্ডে ক্ষতি সন্দেহ হলে জোর করে বসানো, দাঁড় করানো বা হাঁটানোর চেষ্টা না করে জরুরি সহায়তা নিন।
অস্টিওপোরোসিসে হাড় দুর্বল হয়ে গেলে সামান্য পড়ে যাওয়া, ঝুঁকে কাজ করা বা দৈনন্দিন চাপেও কশেরুকা চেপে ভেঙে যেতে পারে।
হঠাৎ পিঠব্যথা হতে পারে, আবার কিছু ফ্র্যাকচার প্রথমে খুব একটা বোঝা যায় না। একাধিক কশেরুকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে উচ্চতা কমা বা পিঠ কুঁজো হওয়ার পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
খেয়াল করবেন: বয়স্ক ব্যক্তির নতুন পিঠব্যথাকে শুধু বয়সের সমস্যা ধরে নেবেন না। ফ্র্যাকচারের পাশাপাশি হাড়ের স্বাস্থ্যও মূল্যায়ন প্রয়োজন।
স্পাইনাল কর্ড মস্তিষ্ক ও শরীরের মধ্যে স্নায়বিক বার্তা আদান-প্রদান করে। এতে আঘাত লাগলে ক্ষতির অবস্থান ও মাত্রা অনুযায়ী হাত-পায়ের শক্তি, অনুভূতি এবং প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ প্রভাবিত হতে পারে। ঘাড়ের গুরুতর আঘাতে শ্বাসপ্রশ্বাসও ব্যাহত হতে পারে।
মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙা ও স্পাইনাল কর্ডে আঘাত এক বিষয় নয়। একসঙ্গে হতে পারে, আবার সব ফ্র্যাকচারে কর্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
খেয়াল করবেন: আঘাতের পরে নতুন অবশভাব, দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্ট হলে এটি জরুরি অবস্থা।
যক্ষ্মার জীবাণু মেরুদণ্ডে সংক্রমণ ঘটালে কশেরুকা ও আশপাশের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ধীরে বাড়তে থাকা পিঠব্যথা এর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
সঙ্গে জ্বর, রাতের ঘাম, ক্ষুধামান্দ্য বা ওজন কমা থাকতে পারে, তবে সবার সব লক্ষণ থাকে না। সমস্যা বাড়লে পিঠ বাঁকা হওয়া বা স্নায়ুতে চাপের কারণে পায়ের দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
খেয়াল করবেন: দীর্ঘস্থায়ী পিঠব্যথার সঙ্গে এসব পরিবর্তন থাকলে পরীক্ষা করান। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া যক্ষ্মার ওষুধ শুরু বা বন্ধ করবেন না।
ডিস্কের সংক্রমণকে ডিস্কাইটিস এবং কশেরুকার হাড়ের সংক্রমণকে ভার্টিব্রাল অস্টিওমায়েলাইটিস বলা হয়। দুটি একসঙ্গেও হতে পারে। রক্তের মাধ্যমে জীবাণু পৌঁছানোসহ বিভিন্ন কারণে এই সংক্রমণ দেখা দেয়।
এক জায়গায় স্থায়ী পিঠ বা ঘাড়ের ব্যথা, নড়াচড়ায় কষ্ট এবং কখনো জ্বর হতে পারে। জ্বর না থাকলেও সংক্রমণ পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না।
খেয়াল করবেন: সাম্প্রতিক সংক্রমণ বা মেরুদণ্ডে কোনো প্রক্রিয়ার পরে নতুন ও বাড়তে থাকা ব্যথা হলে চিকিৎসককে জানান।
স্পাইনাল কর্ডের আবরণের বাইরের জায়গায় সংক্রমণ থেকে পুঁজ জমলে তাকে স্পাইনাল এপিডিউরাল অ্যাবসেস বলা হয়। এটি স্নায়ু বা কর্ডে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তীব্র পিঠব্যথা, জ্বর এবং হাত-পায়ের দুর্বলতা হতে পারে। তবে এই লক্ষণগুলো সবসময় একসঙ্গে দেখা দেয় না।
খেয়াল করবেন: পিঠব্যথার সঙ্গে নতুন দুর্বলতা বা অবশভাব হলে জ্বরের অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
কশেরুকা, স্পাইনাল কর্ড বা তার আশপাশে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি থেকে টিউমার হতে পারে। সব টিউমার ক্যানসার নয়। কিছু মেরুদণ্ডেই শুরু হয়, আবার কিছু অন্য অঙ্গের ক্যানসার থেকে ছড়িয়ে আসে।
ক্রমশ বাড়তে থাকা ব্যথা, বিশ্রাম বা রাতে ব্যথা, দুর্বলতা এবং হাঁটার পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। শুধু রাতে ব্যথা হওয়া দিয়ে টিউমার নিশ্চিত করা যায় না।
খেয়াল করবেন: আগে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে নতুন পিঠব্যথা দ্রুত মূল্যায়ন করান, বিশেষ করে সঙ্গে স্নায়বিক পরিবর্তন থাকলে।
আঘাতের পরে হাত-পা অবশ হওয়া বা শক্তি কমে যাওয়া।
পায়ের দুর্বলতা দ্রুত বাড়া বা নতুন করে হাঁটতে না পারা।
প্রস্রাব আটকে যাওয়া বা প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারানো।
যৌনাঙ্গ, মলদ্বার বা উরুর ভেতরের দিকে অনুভূতি কমে যাওয়া।
পিঠব্যথার সঙ্গে জ্বর ও নতুন স্নায়বিক সমস্যা।
ঘাড়ে আঘাতের পরে শ্বাস নিতে অসুবিধা।
এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করবেন না।
চিকিৎসক আঘাতের ইতিহাস, ব্যথার পরিবর্তন, আগের সংক্রমণ বা ক্যানসারের তথ্য এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করেন।
প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে, CT, MRI ও রক্ত পরীক্ষা করা হয়। সংক্রমণের জীবাণু বা টিউমারের ধরন জানতে কখনো নমুনা পরীক্ষা বা বায়োপসি প্রয়োজন হতে পারে। হাড়ের দুর্বলতাজনিত ফ্র্যাকচারে অস্টিওপোরোসিস মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ।
মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যায় হাড়ের স্থিতিশীলতা, স্নায়ুর নিরাপত্তা এবং রোগের মূল কারণ একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালের অর্থোপেডিক ও স্পাইন চিকিৎসাসেবায় মূল্যায়নের ভিত্তিতে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়।
প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, ব্রেস ও পুনর্বাসন অথবা মেরুদণ্ড স্থিতিশীল করা, স্নায়ুর চাপ কমানো এবং সংক্রমিত টিস্যু অপসারণের মতো সার্জারি বিবেচনা করা হয়। সংক্রমণ ও টিউমারের ক্ষেত্রে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সমন্বিত চিকিৎসাও প্রয়োজন হতে পারে।
মেরুদণ্ডের আঘাত, সংক্রমণ ও টিউমারের চিকিৎসা দেখুন #
না। পক্ষাঘাতের ঝুঁকি নির্ভর করে স্পাইনাল কর্ড বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না এবং আঘাতের মাত্রার ওপর। তাই দ্রুত মূল্যায়ন জরুরি।
না। ফুসফুসের স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াও মেরুদণ্ডে যক্ষ্মা হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
না। টিউমার ক্যানসারবিহীনও হতে পারে। তবে স্নায়ুর কাছে অবস্থানের কারণে এমন টিউমারও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
না। কিছু সংক্রমণে উপযুক্ত ওষুধ ও পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট হতে পারে। স্নায়ুতে চাপ, অস্থিরতা বা অন্য জটিলতা থাকলে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে।
পিঠব্যথার সঙ্গে নতুন পরিবর্তন, আঘাতের ইতিহাস বা চলাফেরার সীমাবদ্ধতা থাকলে কারণ জানতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন #