হাড় দুর্বল হয়ে গেলেও সবসময় ব্যথা হয় না। অনেকের ক্ষেত্রে সামান্য পড়ে গিয়ে কবজি বা হিপের হাড় ভাঙার পর প্রথম অস্টিওপোরোসিস ধরা পড়ে। কারও আবার পিঠের হাড় চেপে গিয়ে উচ্চতা কমে বা শরীর সামনে ঝুঁকে আসে।
বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতাল লিমিটেডে অস্টিওপোরোসিস ও দুর্বল হাড়ের কারণে হওয়া ফ্র্যাকচারের মূল্যায়ন করা হয়। চিকিৎসার পরিকল্পনায় বর্তমান আঘাতের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আবার হাড় ভাঙার ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
হাড়ের স্বাস্থ্য মূল্যায়নে পরামর্শ নিন #
দাঁড়ানো অবস্থার উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়া বা তার চেয়েও কম আঘাতে হাড় ভাঙাকে সাধারণত ফ্র্যাজিলিটি ফ্র্যাকচার বলা হয়। এটি হাড়ের শক্তি কমে যাওয়ার একটি সংকেত হতে পারে।
বিশেষ করে বয়স্ক কারও এমন ফ্র্যাকচার হলে শুধু ভাঙা হাড়ের চিকিৎসা করাই যথেষ্ট নয়। হাড় কেন দুর্বল হলো, আগে কোনো ফ্র্যাকচার হয়েছিল কি না এবং আবার পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে কি না, সেগুলোও দেখা প্রয়োজন।
অস্টিওপোরোসিসে হাড়ের ঘনত্ব ও ভেতরের গঠন দুর্বল হয়ে ভাঙার ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণভাবে অনেকে একে “হাড় ক্ষয়” বলেন। এটি জয়েন্টের ক্ষয় বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের মতো একই রোগ নয়।
প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণত কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তাই শরীরে ব্যথা নেই মানেই হাড় শক্ত আছে, এমন নয়। আবার সব শরীরব্যথা বা কোমরব্যথার কারণও অস্টিওপোরোসিস নয়।
বয়স বাড়া, মেনোপজ, দীর্ঘমেয়াদি কিছু ওষুধের ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট রোগ হাড়ের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়েরই অস্টিওপোরোসিস হতে পারে।
দুর্বল কশেরুকা শরীরের চাপ সামলাতে না পেরে চেপে ভেঙে যেতে পারে। কখনো সামান্য পড়ে যাওয়া বা ঝুঁকে কাজ করার পরে হঠাৎ পিঠব্যথা শুরু হয়। আবার কিছু ফ্র্যাকচার তেমন ব্যথা ছাড়াও থাকতে পারে।
আগের তুলনায় উচ্চতা কমে যাওয়া, পিঠ কুঁজো হওয়া বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতে অসুবিধা এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। একাধিক কশেরুকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের ভঙ্গি ও দৈনন্দিন কাজেও প্রভাব পড়ে।
নতুন পিঠব্যথাকে শুধু বয়সের সমস্যা ধরে নেবেন না, বিশেষ করে আগে থেকে হাড় দুর্বল থাকলে।
পিছলে পড়ে যাওয়া বা ভারসাম্য হারানোর মতো ঘটনায় দুর্বল হিপ বা কবজির হাড় ভাঙতে পারে।
হিপ ফ্র্যাকচারে কুঁচকি বা নিতম্বে ব্যথা, দাঁড়াতে কষ্ট এবং পায়ে ভর দিতে না পারার সমস্যা হয়। কিছু ক্ষেত্রে সামান্য হাঁটা সম্ভব হলেও ফ্র্যাকচার থাকতে পারে।
কবজি ভাঙলে ব্যথা, ফোলা, জিনিস ধরতে অসুবিধা বা কবজির আকৃতি বদলে যেতে পারে। এমন ফ্র্যাকচার হাড়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, শুধু স্থানীয় আঘাত হিসেবে দেখার বিষয় নয়।
অল্প আঘাতে আগে হাড় ভেঙেছে এমন ব্যক্তি।
মেনোপজের পরে ঝুঁকিতে থাকা নারী ও বয়স্ক পুরুষ।
দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করছেন এমন ব্যক্তি।
উচ্চতা কমছে বা পিঠ ক্রমশ কুঁজো হচ্ছে এমন ব্যক্তি।
খুব কম ওজন, অপুষ্টি বা হাড় দুর্বল করতে পারে এমন রোগ আছে যাঁদের।
পরিবারে, বিশেষ করে মা-বাবার হিপ ফ্র্যাকচারের ইতিহাস আছে যাঁদের।
এই তালিকায় থাকা মানেই অস্টিওপোরোসিস নিশ্চিত নয়। আপনার সামগ্রিক ঝুঁকি দেখে পরীক্ষার প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়। নিয়মিত ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না।
অস্টিওপোরোসিস মূল্যায়নে চিকিৎসক আগের ফ্র্যাকচার, ব্যবহৃত ওষুধ, পুষ্টি, শারীরিক সক্রিয়তা এবং পড়ে যাওয়ার ইতিহাস জানতে চাইবেন।
প্রয়োজন অনুযায়ী হাড়ের ঘনত্ব মাপার DXA বা DEXA পরীক্ষা দেওয়া হতে পারে। একে BMD পরীক্ষাও বলা হয়। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষা করে হাড় দুর্বল হওয়ার অন্য কারণ খোঁজা হয়।
শুধু রক্তের ক্যালসিয়াম স্বাভাবিক থাকলেই অস্টিওপোরোসিস বাদ যায় না। আবার ফ্র্যাকচার সন্দেহ হলে হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা না করে আগে আঘাতের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
পড়ে যাওয়ার পরে হিপে ব্যথা ও পায়ে ভর দিতে না পারলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। কবজি বাঁকা দেখালে, আঙুল অবশ বা ঠান্ডা হলে জরুরি মূল্যায়ন প্রয়োজন।
নতুন তীব্র পিঠব্যথার সঙ্গে পায়ের দুর্বলতা, যৌনাঙ্গের আশপাশে অবশভাব অথবা প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন হলে জরুরি বিভাগে যান।
একটি ফ্র্যাকচারের পরে ব্যথা কমানো ও চলাফেরা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পরের ফ্র্যাকচার ঠেকানোর পরিকল্পনাও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালের অর্থোপেডিক সেবায় রোগীর বয়স, হাড়ের অবস্থা, আঘাতের ধরন এবং দৈনন্দিন সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়।
প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্র্যাকচারের চিকিৎসা, অস্টিওপোরোসিসের ওষুধ, পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ এবং নিরাপদ পুনর্বাসন নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়। পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে ভারসাম্য, পেশির শক্তি এবং বাড়ির চলাচলের পরিবেশও গুরুত্ব পায়।
অস্টিওপোরোসিস ও ফ্র্যাজিলিটি ফ্র্যাকচারের চিকিৎসা দেখুন #
সবসময় নয়। পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ, তবে ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি অনুযায়ী আলাদা ওষুধও প্রয়োজন হতে পারে। নিজের সিদ্ধান্তে শুধু সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করবেন না।
না। অস্টিওপোরোসিসে হাড় দুর্বল হয়ে ভাঙার ঝুঁকি বাড়ে। হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে জয়েন্টের কার্টিলেজসহ বিভিন্ন গঠনে ক্ষয়জনিত পরিবর্তন হয়। দুটো একসঙ্গেও থাকতে পারে।
সবার জন্য তা প্রয়োজন নয়। উপযোগী ব্যায়াম পেশির শক্তি ও ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। তবে ফ্র্যাকচার থাকলে বা ঝুঁকি বেশি হলে কী ধরনের নড়াচড়া নিরাপদ, তা চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে জেনে নিন।
অল্প আঘাতে ফ্র্যাকচারের ইতিহাস ভবিষ্যৎ ফ্র্যাকচারের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিসূচক। তাই হাড় জোড়া লাগার পরেও হাড়ের স্বাস্থ্য ও প্রতিরোধমূলক যত্ন চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
অল্প আঘাতে ফ্র্যাকচার, উচ্চতা কমে যাওয়া বা হাড়ের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলে মূল্যায়নের জন্য পরামর্শ নিন। ব্যথা না থাকলেও ঝুঁকি থাকলে বিষয়টি আলোচনা করা যায়।
বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন #