পড়ে যাওয়ার পরে হাত ফুলে গেছে বা পায়ে ভর দিতে পারছেন না? দুর্ঘটনায় আঘাত পাওয়া জায়গা বাঁকা দেখাচ্ছে? আবার পুরোনো ভাঙা হাড়ে ব্যথা থেকে যাচ্ছে বা ঠিকভাবে জোড়া লাগেনি? এসব সমস্যায় হাড়ের পাশাপাশি আশপাশের পেশি, জয়েন্ট, স্নায়ু ও রক্তনালির অবস্থাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতাল লিমিটেডে হাত-পায়ের ফ্র্যাকচার, পেলভিক ফ্র্যাকচার, খোলা ক্ষতসহ হাড় ভাঙা এবং হাড় জোড়া লাগার জটিলতার মূল্যায়ন ও চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন #
হাড় ভাঙার চিকিৎসা ও সার্জারি সম্পর্কে জানুন #
আঘাতের জায়গায় ব্যথা, ফোলা বা কালশিটে।
হাত ব্যবহার করতে বা পায়ে ভর দিতে অসুবিধা।
হাত-পা বাঁকা, ছোট বা অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যাওয়া।
ভাঙার জায়গার কাছে ক্ষত বা রক্তপাত।
আঘাতের পর আঙুলে অবশভাব বা দুর্বলতা।
সব ফ্র্যাকচারে বাইরে থেকে বিকৃতি দেখা যায় না। কিছুটা নড়াচড়া করতে পারলেও হাড় ভাঙা থাকতে পারে। হাড়ে ফাটলও এক ধরনের ফ্র্যাকচার।
পড়ে যাওয়া, সড়ক দুর্ঘটনা, খেলাধুলা বা সরাসরি আঘাতে হাত-পায়ের হাড় ভাঙতে পারে। হাড় দুর্বল থাকলে তুলনামূলক কম আঘাতেও ফ্র্যাকচার হয়।
হাড়ে ছোট ফাটল থেকে একাধিক টুকরা হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। ভাঙা অংশ সরে গেছে কি না, জয়েন্টের ভেতর পর্যন্ত আঘাত পৌঁছেছে কি না এবং আশপাশের টিস্যুর অবস্থা চিকিৎসার সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ।
খেয়াল করবেন: আঘাতের পরে ব্যথা ও ফোলার সঙ্গে স্বাভাবিক কাজ করতে না পারলে পরীক্ষা করান। নিজে টেনে হাড় সোজা করা বা মালিশ করা থেকে বিরত থাকুন।
পেলভিস বা শ্রোণি হলো কোমরের নিচে থাকা হাড়ের বলয়, যা মেরুদণ্ডের সঙ্গে পা যুক্ত করে। বড় দুর্ঘটনায় এটি ভাঙতে পারে। বয়স্ক বা দুর্বল হাড়ের ব্যক্তির পড়ে যাওয়াতেও পেলভিক ফ্র্যাকচার হতে পারে।
কুঁচকি, নিতম্ব বা কোমরের নিচে ব্যথা এবং দাঁড়াতে বা হাঁটতে অসুবিধা হতে পারে। গুরুতর আঘাতে ভেতরে রক্তপাত বা আশপাশের অঙ্গের ক্ষতিও হতে পারে।
খেয়াল করবেন: বড় দুর্ঘটনার পরে এই অংশে ব্যথার সঙ্গে মাথা ঘোরা, ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা থাকলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
ভাঙা হাড়ের অংশের সঙ্গে বাইরের ক্ষতের সংযোগ থাকলে তাকে ওপেন ফ্র্যাকচার বলা হয়। হাড় বাইরে বেরিয়ে না থাকলেও এটি হতে পারে।
এ ধরনের আঘাতে জীবাণু প্রবেশ করে হাড় ও আশপাশের টিস্যুতে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। ক্ষত ছোট দেখালেও ভেতরের আঘাত গুরুতর হতে পারে।
খেয়াল করবেন: এটি জরুরি চিকিৎসার বিষয়। ক্ষত পরিষ্কার কাপড় বা জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং দিয়ে ঢেকে দ্রুত হাসপাতালে যান। বেরিয়ে থাকা হাড় ভেতরে ঠেলে দেবেন না বা ক্ষতে কোনো পদার্থ লাগাবেন না।
ভাঙা হাড়ের জোড়া লাগার প্রক্রিয়া ব্যর্থ হলে তাকে ননইউনিয়ন বলা হয়। সংক্রমণ, রক্ত সরবরাহের সমস্যা, পর্যাপ্ত স্থিতিশীলতার অভাব এবং ধূমপানসহ বিভিন্ন বিষয় এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ভাঙার জায়গায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা ভর দিতে অসুবিধা থাকতে পারে।
হাড় বাঁকা, ঘোরানো বা ছোট অবস্থায় জোড়া লাগলে তাকে ম্যালইউনিয়ন বলা হয়। এতে চলাফেরা, জয়েন্টের নড়াচড়া বা হাতের কাজে সমস্যা হতে পারে।
খেয়াল করবেন: শুধু কয়েক সপ্তাহ ব্যথা থাকলেই ননইউনিয়ন বলা যায় না। আগের ও বর্তমান এক্স-রে, সময়ের সঙ্গে অগ্রগতি এবং শারীরিক পরীক্ষা মিলিয়ে মূল্যায়ন করা হয়।
ভাঙার জায়গায় খোলা ক্ষত বা হাড় দেখা গেলে।
হাত-পা বা আঙুল ঠান্ডা, ফ্যাকাশে, নীলচে বা অবশ হলে।
অস্বাভাবিক তীব্র ব্যথা ও দ্রুত বাড়তে থাকা টানটান ফোলা হলে।
রক্তপাত বন্ধ না হলে।
বড় দুর্ঘটনার পরে মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা চেতনার পরিবর্তন হলে।
প্লাস্টার করার পর ব্যথা দ্রুত বাড়লে বা আঙুলের অনুভূতি ও রঙ বদলে গেলে।
ফ্র্যাকচার সন্দেহ হলে আহত অংশ অপ্রয়োজনে নাড়াবেন না। পায়ে জোর করে ভর দেবেন না এবং অদক্ষ কাউকে দিয়ে হাড় বসানোর চেষ্টা করবেন না।
চিকিৎসক আঘাতের ইতিহাস, ক্ষত, ফোলা এবং হাত-পায়ের অবস্থান পরীক্ষা করেন। রক্ত চলাচল, অনুভূতি ও নড়াচড়াও মূল্যায়ন করা হয়।
সাধারণত এক্স-রে দিয়ে ফ্র্যাকচারের অবস্থান ও ধরন বোঝা যায়। জটিল বা জয়েন্টের ভেতরের ফ্র্যাকচারে CT প্রয়োজন হতে পারে। হাড় জোড়া না লাগলে আগের রিপোর্টের পাশাপাশি সংক্রমণ ও অন্যান্য কারণের পরীক্ষা করা হতে পারে।
হাড় ভাঙার চিকিৎসায় সঠিক অবস্থানে জোড়া লাগার পাশাপাশি জয়েন্টের নড়াচড়া ও দৈনন্দিন কাজে ফেরার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালের অর্থোপেডিক সেবায় সাধারণ ফ্র্যাকচার থেকে জটিল আঘাত এবং পুরোনো ফ্র্যাকচারের সমস্যার জন্য চিকিৎসার বিকল্প মূল্যায়ন করা হয়।
প্রয়োজন অনুযায়ী প্লাস্টার বা ব্রেস, হাড়ের অবস্থান ঠিক করা, প্লেট-স্ক্রু বা রড দিয়ে স্থিতিশীল করা এবং এক্সটার্নাল ফিক্সেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়। ননইউনিয়ন ও ম্যালইউনিয়নে কারণ অনুযায়ী পুনর্গঠনমূলক চিকিৎসা বিবেচনা করা হয়।
ফ্র্যাকচার ও ট্রমা চিকিৎসার বিকল্প দেখুন #
এমন নয়। কিছু ফ্র্যাকচারেও নড়াচড়া সম্ভব। আঘাতের পরে ব্যথা, ফোলা বা ভর দিতে অসুবিধা থাকলে মূল্যায়ন প্রয়োজন।
না। অনেক ফ্র্যাকচার প্লাস্টার, ব্রেস বা অন্য অস্ত্রোপচারবিহীন পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা যায়। ভাঙার ধরন, অবস্থান ও স্থিতিশীলতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাড়ের অবস্থান, আঘাতের মাত্রা, বয়স ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর সময় নির্ভর করে। ব্যথা কমে গেলেই হাড় পুরোপুরি শক্ত হয়েছে, এমন নয়। ফলোআপের পর চিকিৎসক কাজ বা পায়ে ভর দেওয়ার পরামর্শ দেন।
অনেক ক্ষেত্রে সংশোধনী চিকিৎসা বিবেচনা করা যায়। তবে প্রয়োজন ও পদ্ধতি নির্ভর করে ব্যথা, বিকৃতির মাত্রা এবং হাত-পায়ের কার্যক্ষমতার ওপর।
ভাঙা হাড়ের ব্যথা, জোড়া লাগার অগ্রগতি বা চলাফেরার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন নিন। নতুন গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে সরাসরি জরুরি বিভাগে যান।
বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন #