Welcome to Bangladesh OrthoCare Hospital LTD.

Get Location

24/7 Emergency

Disc Disorders & Spine Arthritis

Explore the conditions we treat and learn how our specialists can help

ডিস্ক ও মেরুদণ্ডের ক্ষয়জনিত সমস্যা: কোমর ব্যথা, ঘাড় ব্যথা ও স্নায়ুর চাপ

কোমরের ব্যথা পায়ে নামছে? ঘাড় থেকে হাতে ব্যথা বা ঝিনঝিন ছড়াচ্ছে? কিছুক্ষণ হাঁটলেই পা ভারী হয়ে আসছে? মেরুদণ্ডের ডিস্ক, জয়েন্ট বা স্নায়ুর সমস্যায় এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতাল লিমিটেডে ডিস্ক প্রলাপ্স, স্পন্ডাইলোসিস এবং স্নায়ু ও স্পাইনাল কর্ডে চাপজনিত সমস্যার মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও স্পাইন সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন #
মেরুদণ্ডের চিকিৎসা ও সার্জারির বিকল্প দেখুন #

কোন লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন?

  • ঘাড় বা কোমরে বারবার ব্যথা ও শক্তভাব।

  • কোমর থেকে নিতম্ব হয়ে পায়ে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া।

  • ঘাড় থেকে কাঁধ, বাহু বা আঙুলে ব্যথা ও ঝিনঝিন।

  • হাতে বা পায়ে অবশভাব কিংবা শক্তি কমে যাওয়া।

  • দাঁড়িয়ে থাকলে বা হাঁটলে পায়ে ব্যথা ও ভারী অনুভূতি।

  • বোতাম লাগানো, লেখা বা ছোট জিনিস ধরতে অসুবিধা।

  • হাঁটার ভারসাম্য বদলে যাওয়া বা বারবার হোঁচট খাওয়া।

সব ঘাড় বা কোমর ব্যথাই ডিস্কের সমস্যা নয়। লক্ষণ, শারীরিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল মিলিয়ে কারণ নির্ধারণ করা হয়।


ডিস্ক ও মেরুদণ্ডের যেসব সমস্যা মূল্যায়ন করা হয়

ডিস্ক প্রলাপ্স বা পিএলআইডি (PLID)

মেরুদণ্ডের হাড়গুলোর মাঝের ডিস্ক চাপ শোষণ ও নড়াচড়ায় সাহায্য করে। ডিস্কের ভেতরের অংশ বাইরের আবরণ ভেদ করে বেরিয়ে এলে তাকে ডিস্ক প্রলাপ্স বা হার্নিয়েটেড ডিস্ক বলা হয়।

কোমরের ডিস্ক স্নায়ুতে চাপ দিলে নিতম্ব থেকে পায়ে ব্যথা, ঝিনঝিন বা দুর্বলতা হতে পারে। ঘাড়ের ডিস্কের সমস্যায় একই ধরনের উপসর্গ হাতে দেখা দিতে পারে। তবে ডিস্ক প্রলাপ্স থাকলেই সবার ব্যথা বা অপারেশনের প্রয়োজন হয় না।

 

ডিস্কের ক্ষয়জনিত পরিবর্তন (Degenerative Disc Disease)

সময়ের সঙ্গে ডিস্কের পানি ধারণক্ষমতা, উচ্চতা ও নমনীয়তা কমতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এতে ঘাড় বা কোমরে ব্যথা হয়, বিশেষ করে দীর্ঘক্ষণ বসা বা কিছু কাজের সময়।

রিপোর্টে ডিস্কের ক্ষয় দেখা গেলেই সেটিই ব্যথার কারণ, এমন নয়। অনেকের এসব পরিবর্তন থাকলেও কোনো উপসর্গ থাকে না। তাই রিপোর্টের সঙ্গে রোগীর সমস্যার মিল দেখা জরুরি।

 

ঘাড় ও কোমরের স্পন্ডাইলোসিস (Cervical & Lumbar Spondylosis)

স্পন্ডাইলোসিস বলতে মেরুদণ্ডের ডিস্ক, হাড় ও জয়েন্টের ক্ষয়জনিত পরিবর্তন বোঝায়। ঘাড়ে হলে সার্ভাইক্যাল এবং কোমরে হলে লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস বলা হয়।

ঘাড় ঘোরাতে অস্বস্তি, কোমর শক্ত লাগা বা বারবার ব্যথা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হাড়ের বাড়তি অংশ বা অন্য পরিবর্তন স্নায়ুর জায়গা সংকুচিত করে। তখন হাতে বা পায়ে ব্যথা, অবশভাব কিংবা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

 

মেরুদণ্ডের ছোট জয়েন্টের আর্থ্রাইটিস (Facet Joint Arthritis)

মেরুদণ্ডের পেছনের ছোট ফ্যাসেট জয়েন্টগুলো নড়াচড়া ও স্থিতিশীলতায় সাহায্য করে। এসব জয়েন্টে ক্ষয় হলে ঘাড় বা কোমরে ব্যথা ও শক্তভাব হতে পারে।

পেছনে বাঁকা হওয়া, শরীর ঘোরানো বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার সময় ব্যথা বাড়তে পারে। অন্য সমস্যাতেও একই লক্ষণ হয়, তাই শুধু ব্যথার ধরন দেখে ফ্যাসেট জয়েন্টের রোগ নিশ্চিত করা যায় না।

 

মেরুদণ্ডের স্নায়ুর পথ সরু হয়ে যাওয়া (Spinal Stenosis)

স্পাইনাল ক্যানাল বা স্নায়ু বের হওয়ার পথ সরু হয়ে গেলে স্নায়ু বা স্পাইনাল কর্ডে চাপ পড়তে পারে। এই অবস্থাকে স্পাইনাল স্টেনোসিস বলা হয়।

কোমরের ক্ষেত্রে দাঁড়ানো বা হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা, ঝিনঝিন বা ভারী অনুভূতি হতে পারে। বসলে বা সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকলে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। ঘাড়ের স্টেনোসিসে হাতের কাজ ও হাঁটার ভারসাম্যও প্রভাবিত হতে পারে।

 

স্নায়ুর কারণে হাতে বা পায়ে ছড়ানো সমস্যা (Sciatica & Radiculopathy)

সায়াটিকা বলতে সাধারণত নিতম্ব থেকে পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়া স্নায়ুজনিত ব্যথাকে বোঝায়। এটি নিজে একটি নির্দিষ্ট রোগের নাম নয়। ডিস্ক প্রলাপ্স বা স্পাইনাল স্টেনোসিসসহ বিভিন্ন সমস্যায় এমন হতে পারে।

স্নায়ুর গোড়ায় চাপ বা জ্বালার কারণে ব্যথা, ঝিনঝিন, অবশভাব বা দুর্বলতা হলে তাকে র‍্যাডিকুলোপ্যাথি বলা হয়। সমস্যার অবস্থান অনুযায়ী উপসর্গ হাতে বা পায়ে দেখা দেয়।

 

ঘাড়ের স্পাইনাল কর্ডের কার্যকারিতায় সমস্যা (Cervical Myelopathy)

ঘাড়ের ভেতরের স্পাইনাল কর্ডে চাপ পড়ে তার স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হলে সার্ভাইক্যাল মায়েলোপ্যাথি হতে পারে।

বোতাম লাগাতে বা লিখতে অসুবিধা, হাতের সূক্ষ্ম কাজের দক্ষতা কমা, পা শক্ত লাগা এবং হাঁটার ভারসাম্য নষ্ট হওয়া গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। ঘাড়ে তীব্র ব্যথা না থাকলেও এই সমস্যা থাকতে পারে।

খেয়াল করবেন: হাতের দক্ষতা বা হাঁটার ভারসাম্য ক্রমশ কমলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন নিন।

 

স্পাইনাল স্নায়ু ও কর্ডে চাপ (Spinal Nerve & Cord Compression)

এটি একটি বিস্তৃত অবস্থা। ডিস্ক প্রলাপ্স, স্টেনোসিস বা মেরুদণ্ডের অন্যান্য পরিবর্তনের কারণে স্নায়ু অথবা স্পাইনাল কর্ডে চাপ পড়তে পারে।

স্নায়ুতে চাপের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হাত বা পায়ে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। স্পাইনাল কর্ডে চাপ হলে হাতের কাজ, পায়ের শক্তি ও ভারসাম্য একসঙ্গে প্রভাবিত হতে পারে। চিকিৎসার সিদ্ধান্তে চাপের কারণ এবং স্নায়ুর কার্যক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।

কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন?

ঘাড় বা কোমরের সমস্যার সঙ্গে নিচের কোনো লক্ষণ নতুন করে দেখা দিলে জরুরি বিভাগে যান:

  • প্রস্রাব আটকে যাওয়া বা প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারানো।

  • যৌনাঙ্গ, মলদ্বার বা উরুর ভেতরের দিকে অনুভূতি কমে যাওয়া।

  • হাত বা পায়ের শক্তি দ্রুত কমতে থাকা।

  • হঠাৎ হাঁটতে না পারা বা ভারসাম্য গুরুতরভাবে নষ্ট হওয়া।

  • বড় আঘাতের পরে ঘাড় বা পিঠে ব্যথার সঙ্গে অবশভাব বা দুর্বলতা।

জ্বরের সঙ্গে তীব্র পিঠব্যথা হলেও দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অপেক্ষা করবেন না।

সমস্যার কারণ কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

চিকিৎসক ব্যথার শুরু, ছড়িয়ে পড়ার ধরন, হাঁটার ক্ষমতা এবং হাতের কাজের পরিবর্তন সম্পর্কে জানবেন। এরপর পেশির শক্তি, অনুভূতি, রিফ্লেক্স ও ভারসাম্য পরীক্ষা করবেন।

প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে, MRI বা স্নায়ুর পরীক্ষা দেওয়া হতে পারে। সাধারণ এক্স-রেতে ডিস্ক প্রলাপ্স সরাসরি দেখা যায় না। আবার সব কোমর ব্যথায় শুরুতেই MRI প্রয়োজন হয় না।

বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালে মেরুদণ্ডের যত্ন

মেরুদণ্ডের চিকিৎসায় ব্যথার পাশাপাশি স্নায়ুর কার্যক্ষমতা, চলাফেরা এবং দৈনন্দিন কাজে প্রভাব মূল্যায়ন করা জরুরি। বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালের অর্থোপেডিক ও স্পাইন চিকিৎসাসেবায় এসব বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়।

প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারবিহীন চিকিৎসা, পুনর্বাসন অথবা ডিস্ক অপসারণ, স্নায়ুর চাপ কমানো ও মেরুদণ্ড স্থিতিশীল করার সার্জারি নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। সব রোগীর জন্য একই চিকিৎসা উপযুক্ত নয়।

ডিস্ক ও মেরুদণ্ডের চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন #

সাধারণ প্রশ্ন

পিএলআইডি হলেই কি অপারেশন লাগে?

না। অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারবিহীন চিকিৎসায় উপসর্গ কমে। তবে বাড়তে থাকা দুর্বলতা, জরুরি স্নায়বিক লক্ষণ বা উপযুক্ত চিকিৎসার পরও গুরুতর সমস্যা থাকলে সার্জারি বিবেচনা করা হয়।

MRI রিপোর্টে ডিস্কের সমস্যা মানেই কি গুরুতর রোগ?

না। রিপোর্টের পরিবর্তন কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা লক্ষণ ও শারীরিক পরীক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে বোঝা যায়। শুধু রিপোর্ট দেখে রোগের তীব্রতা নির্ধারণ করা ঠিক নয়।

সায়াটিকা ও কোমর ব্যথা কি একই?

না। কোমর ব্যথা কোমরেই সীমিত থাকতে পারে। সায়াটিকায় সাধারণত নিতম্ব থেকে পায়ের দিকে স্নায়ুজনিত ব্যথা ছড়ায়।

ঘাড়ের সমস্যায় কি হাঁটতে অসুবিধা হতে পারে?

হ্যাঁ। ঘাড়ের স্পাইনাল কর্ডে চাপ পড়লে হাঁটার ভারসাম্য ও পায়ের কার্যক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে। এমন পরিবর্তন হলে দ্রুত মূল্যায়ন প্রয়োজন।

মেরুদণ্ডের সমস্যায় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

ঘাড় বা কোমরের ব্যথা, হাতে-পায়ে ঝিনঝিন কিংবা দুর্বলতার কারণে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হলে সমস্যার কারণ জানতে পরামর্শ নিন।

বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন #