হাত ওপরে তুলতে, জামা পরতে বা চুল আঁচড়াতে কাঁধে ব্যথা হচ্ছে? কাপ ধরতে, ব্যাগ তুলতে কিংবা কিছু শক্ত করে ধরতে কনুইয়ে ব্যথা অনুভব করছেন? জয়েন্টের শক্তভাব, টেন্ডনের আঘাত বা কাঁধ সরে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এসব সমস্যা হতে পারে।
বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতাল লিমিটেডে কাঁধ ও কনুইয়ের রোগ এবং আঘাতের মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থোপেডিক চিকিৎসা ও সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়।
অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
কাঁধ ও কনুইয়ের চিকিৎসার বিকল্প দেখুন
হাত মাথার ওপরে তুলতে বা পেছনে নিতে ব্যথা।
কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়া ও নড়াচড়া কমে আসা।
রাতে বা আক্রান্ত কাঁধের ওপর শুলে ব্যথা।
হাত তুলতে বা কিছু বহন করতে দুর্বল লাগা।
কাঁধ সরে যাচ্ছে বা জয়েন্টে ভরসা পাওয়া যাচ্ছে না—এমন অনুভূতি।
কনুইয়ের বাইরের দিকে ব্যথা, বিশেষ করে কিছু ধরতে বা তুলতে গেলে।
একই লক্ষণ একাধিক সমস্যায় হতে পারে। ঘাড়ের স্নায়ুর সমস্যাও কখনো কাঁধ বা হাতে ব্যথা তৈরি করতে পারে। তাই ব্যথার উৎস বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্রোজেন শোল্ডারে কাঁধের জয়েন্ট ঘিরে থাকা আবরণ শক্ত ও টানটান হয়ে যায়। ফলে ব্যথার পাশাপাশি হাত নাড়ানোর ক্ষমতা কমে আসে। জামা পরা, চুল আঁচড়ানো বা পিঠে হাত নেওয়ার মতো কাজ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
প্রথমে ব্যথা বাড়তে পারে, পরে শক্তভাব বেশি অনুভূত হয়। ধীরে ধীরে নড়াচড়া ফিরতে পারে, তবে সময় ও সুস্থতার মাত্রা সবার এক নয়। ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে এর ঝুঁকি বেশি।
খেয়াল করবেন: কাঁধ ব্যথা মানেই ফ্রোজেন শোল্ডার নয়। হাতের নড়াচড়া ক্রমশ কমে গেলে পরীক্ষা করান; জোর করে টেনে ব্যায়াম শুরু করবেন না।
রোটেটর কাফ হলো কাঁধের কয়েকটি পেশি ও টেন্ডনের সমন্বয়, যা হাত তুলতে, ঘোরাতে এবং জয়েন্ট স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। পড়ে যাওয়া, আঘাত অথবা সময়ের সঙ্গে টেন্ডনের ক্ষয় থেকে আংশিক বা সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যেতে পারে।
হাত ওপরে তুলতে ব্যথা, শক্তি কমে যাওয়া এবং রাতে আক্রান্ত পাশে শুতে অসুবিধা হতে পারে। আঘাতের পরে হঠাৎ শুরু হতে পারে, আবার ধীরে ধীরেও সমস্যা বাড়তে পারে।
খেয়াল করবেন: আঘাতের পরে হঠাৎ হাত তুলতে না পারলে বা স্পষ্ট দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত মূল্যায়ন প্রয়োজন।
বাহুর হাড়ের মাথা কাঁধের সকেট থেকে বেরিয়ে গেলে একে শোল্ডার ডিসলোকেশন বলা হয়। পড়ে যাওয়া, খেলাধুলা বা দুর্ঘটনায় এমন হতে পারে।
সাধারণত তীব্র ব্যথা, কাঁধের আকৃতি বদলে যাওয়া এবং হাত নাড়াতে না পারার সমস্যা হয়। একবার সরে যাওয়ার পরে কারও কারও বারবার সরে যাওয়া বা অস্থিরতার প্রবণতা তৈরি হয়।
খেয়াল করবেন: কাঁধ সরে গেলে নিজে বা অদক্ষ কাউকে দিয়ে টেনে বসানোর চেষ্টা করবেন না। দ্রুত হাসপাতালে যান। বারবার সরে যাওয়ার ঘটনাও বিশেষজ্ঞকে জানান।
টেনিস এলবোতে কনুইয়ের বাইরের দিকে যুক্ত টেন্ডনে ক্ষয় ও ক্ষুদ্র আঘাতজনিত পরিবর্তন হয়। শুধু টেনিস খেলোয়াড়দের নয়—বারবার শক্ত করে ধরা, কবজি ব্যবহার বা ভার তোলার কাজেও এটি হতে পারে।
কাপ ধরা, বোতলের ঢাকনা খোলা, কাপড় নিংড়ানো বা ব্যাগ তোলার সময় কনুইয়ের বাইরের দিকে ব্যথা বাড়তে পারে। ব্যথার কারণে হাতের মুঠোর শক্তিও কম মনে হতে পারে।
খেয়াল করবেন: কাজের সময় একই জায়গায় বারবার ব্যথা হলে বা স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হলে মূল্যায়ন করান। সব কনুই ব্যথাই টেনিস এলবো নয়।
আঘাতের পরে কাঁধ বা কনুইয়ের আকৃতি বদলে গেলে।
তীব্র ব্যথার সঙ্গে হাত নাড়াতে না পারলে।
আঘাতের পরে হাত অবশ, ঠান্ডা বা অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে হলে।
জ্বরের সঙ্গে জয়েন্ট লাল, গরম ও ফুলে গেলে।
কাঁধ বা হাতের ব্যথার সঙ্গে বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডা ঘাম হলে জরুরি চিকিৎসা নিন—এটি শুধু অর্থোপেডিক সমস্যা নাও হতে পারে।
চিকিৎসক ব্যথার শুরু, আঘাতের ইতিহাস, কাজের ধরন এবং দৈনন্দিন অসুবিধা সম্পর্কে জানবেন। এরপর জয়েন্টের নড়াচড়া, পেশির শক্তি, স্থিতিশীলতা ও স্নায়ুর কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন।
প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে, আল্ট্রাসাউন্ড বা MRI দেওয়া হতে পারে। সব কাঁধ বা কনুইয়ের ব্যথায় MRI প্রয়োজন হয় না।
কাঁধ ও কনুইয়ের চিকিৎসায় ব্যথার পাশাপাশি হাতের নড়াচড়া, শক্তি এবং কাজে ফেরার প্রয়োজন বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞরা ফ্রোজেন শোল্ডার, টেন্ডনের আঘাত, জয়েন্টের অস্থিরতা ও কনুইয়ের সমস্যার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসার বিকল্প মূল্যায়ন করেন।
রোগের ধরন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারবিহীন চিকিৎসা ও পুনর্বাসন থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আর্থ্রোস্কোপি, টেন্ডন রিপেয়ার বা কাঁধ স্থিতিশীল করার সার্জারি নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।
কাঁধ ও কনুইয়ের চিকিৎসা ও সার্জারি সম্পর্কে জানুন
না। টেন্ডনের আঘাত, ব্যথা বা অন্য সমস্যাতেও হাত তুলতে অসুবিধা হতে পারে। নড়াচড়া ও পেশির শক্তি পরীক্ষা করে কারণ বোঝা যায়।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির ঝুঁকি বেশি। তবে ডায়াবেটিস থাকলেই ফ্রোজেন শোল্ডার হবে, এমন নয়।
হ্যাঁ। পেশাগত কাজ, ঘরের কাজ বা বারবার কবজি ও মুঠো ব্যবহার করার সঙ্গেও এই সমস্যা সম্পর্কিত হতে পারে।
সব ক্ষেত্রে নয়। ছিঁড়ে যাওয়ার ধরন, দুর্বলতা, আঘাতের সময় এবং রোগীর কাজের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারিত হয়।
ব্যথা বা দুর্বলতার কারণে ঘুম, কাজ কিংবা হাতের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হলে কারণ জানতে পরামর্শ নিন।