এক কাঁধ অন্যটির চেয়ে উঁচু দেখাচ্ছে? পিঠ কুঁজো হয়ে আসছে বা দাঁড়ালে শরীর একদিকে হেলে যাচ্ছে? মেরুদণ্ডের আকৃতি ও ভারসাম্যের পরিবর্তন কখনো শৈশবে, কখনো বয়স বাড়ার সঙ্গে দেখা দিতে পারে। আবার কশেরুকা সরে যাওয়া বা অস্থিরতার কারণে কোমর ব্যথা ও চলাফেরার অসুবিধা হতে পারে।
বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতাল লিমিটেডে মেরুদণ্ডের বক্রতা, জন্মগত গঠনগত সমস্যা ও অস্থিরতার মূল্যায়ন করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা এবং সংশোধনী সার্জারির পরামর্শ দেওয়া হয়।
মেরুদণ্ডের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
মেরুদণ্ডের বক্রতা ও অস্থিরতার চিকিৎসা দেখুন
দুই কাঁধ বা কোমরের দুই পাশের উচ্চতায় পার্থক্য।
সামনে ঝুঁকলে পিঠের এক পাশ বেশি উঁচু দেখানো।
পিঠ অস্বাভাবিক গোল বা কুঁজো হয়ে আসা।
দাঁড়ালে শরীর একদিকে বা সামনের দিকে হেলে থাকা।
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতে বা হাঁটতে পিঠে ব্যথা ও ক্লান্তি।
কোমর ব্যথার সঙ্গে পায়ে ঝিনঝিন, অবশভাব বা দুর্বলতা।
মেরুদণ্ডের কিছু গঠনগত সমস্যায় শুরুতে ব্যথা থাকে না। বিশেষ করে শিশুর শরীরের আকৃতিতে পরিবর্তন দেখলে ব্যথার অপেক্ষা না করে মূল্যায়ন করানো ভালো।
স্কোলিওসিসে মেরুদণ্ড পাশের দিকে বাঁকার পাশাপাশি কশেরুকায় ঘূর্ণনও থাকতে পারে। এতে এক কাঁধ উঁচু, কোমরের দুই পাশ অসমান অথবা পিঠের এক পাশ বেশি উঁচু দেখাতে পারে।
শিশু ও কিশোরদের অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায় না। শুধু ভুলভাবে বসা বা ভারী স্কুলব্যাগ বহন করাকে এর কারণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বয়স, শারীরিক বৃদ্ধি এবং বাঁক বাড়ছে কি না, এসব মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
মেরুদণ্ডে স্বাভাবিকভাবেই কিছু বাঁক থাকে। বুকের পেছনের অংশের বাঁক অতিরিক্ত বেড়ে গেলে পিঠ বেশি গোল বা কুঁজো দেখাতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে বসা বা দাঁড়ানোর ভঙ্গির ভূমিকা থাকে। অন্য ক্ষেত্রে কশেরুকার গঠন, জন্মগত সমস্যা বা হাড়ের চাপজনিত ভাঙন কারণ হতে পারে। পিঠে ব্যথা, শক্তভাব বা দীর্ঘক্ষণ সোজা থাকতে কষ্ট হতে পারে। সব ধরনের কুঁজোভাব একইভাবে চিকিৎসা করা হয় না।
মেরুদণ্ডের একটি Vertebra নিচেরটির তুলনায় সরে গেলে তাকে স্পন্ডাইলোলিসথেসিস বলা হয়। হাড়ের একটি অংশে ত্রুটি বা ক্ষয়জনিত পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে এটি হতে পারে।
কোমর ব্যথা, দাঁড়াতে বা হাঁটতে অস্বস্তি এবং পেছনের পেশিতে টান লাগতে পারে। স্নায়ুতে চাপ পড়লে পায়েও ব্যথা বা অবশভাব হতে পারে। এটি ডিস্ক প্রলাপ্সের মতো একই সমস্যা নয়, যদিও কিছু লক্ষণ মিলে যেতে পারে।
স্পন্ডাইলোলাইসিসে কশেরুকার পেছনের ছোট সংযোগকারী অংশে ফাটল বা ত্রুটি থাকে। কোমরে বারবার চাপ পড়ে এমন খেলাধুলায় কিশোরদের এটি দেখা যেতে পারে, তবে অন্য বয়সেও হতে পারে।
কাজ বা খেলাধুলায় কোমর ব্যথা বাড়তে পারে, বিশেষ করে পেছনে বাঁকা হওয়ার সময়। কারও কোনো লক্ষণ থাকে না। কিছু ক্ষেত্রে এটি কশেরুকা সরে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও সবার ক্ষেত্রে তা ঘটে না।
গর্ভাবস্থায় মেরুদণ্ডের কিছু হাড় ঠিকভাবে তৈরি বা আলাদা না হলে জন্মগত বক্রতা তৈরি হতে পারে। জন্মের সময় পরিবর্তনটি স্পষ্ট না হলেও শিশুর বৃদ্ধির সঙ্গে নজরে আসতে পারে।
শরীর একদিকে হেলে থাকা, কাঁধ বা কোমর অসমান দেখানো এবং পিঠে অস্বাভাবিক বাঁক এর লক্ষণ হতে পারে। শিশুর বয়স, বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও হাড়ের গঠন অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ বা চিকিৎসার পরিকল্পনা প্রয়োজন।
প্রাপ্তবয়স্কদের ডিস্ক ও জয়েন্টে অসম ক্ষয় হলে মেরুদণ্ড নতুন করে পাশের দিকে বাঁকতে পারে। এটি ছোটবেলা থেকে থাকা স্কোলিওসিসের চেয়ে আলাদা পরিস্থিতি।
কোমরে ব্যথা, দাঁড়িয়ে থাকতে ক্লান্তি বা শরীর একদিকে হেলে যাওয়ার অনুভূতি হতে পারে। সঙ্গে স্নায়ুর পথ সরু হলে পায়ে ব্যথা, ঝিনঝিন বা হাঁটার সীমাবদ্ধতাও দেখা দিতে পারে।
মেরুদণ্ডের কোনো অংশ স্বাভাবিক অবস্থান ও নিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া বজায় রাখতে না পারলে অস্থিরতা থাকতে পারে। ক্ষয়, আঘাত বা কশেরুকা সরে যাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত।
নড়াচড়ায় কোমর ব্যথা বা কিছু অবস্থানে অস্বস্তি হতে পারে। তবে শুধু কোমরে শব্দ হওয়া বা ব্যথা থাকাই অস্থিরতার প্রমাণ নয়। শারীরিক পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ইমেজিং মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুধু বাইরে থেকে দেখে বা ব্যথার মাত্রা দিয়ে সমস্যার গুরুত্ব নির্ধারণ করা যায় না। চিকিৎসক বিবেচনা করেন:
বাঁকের ধরন, পরিমাণ এবং সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন।
রোগীর বয়স ও হাড়ের বৃদ্ধি কতটা বাকি।
শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য ও চলাফেরা।
স্নায়ুতে চাপ, দুর্বলতা বা দৈনন্দিন কাজের সীমাবদ্ধতা।
তাই একই রকম বাঁক থাকলেও দুই রোগীর চিকিৎসার পরিকল্পনা আলাদা হতে পারে।
পায়ের শক্তি দ্রুত কমে যাওয়া, নতুন করে হাঁটতে না পারা, প্রস্রাব আটকে যাওয়া বা প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারানো হলে জরুরি চিকিৎসা নিন। যৌনাঙ্গ বা মলদ্বারের আশপাশে অনুভূতি কমে যাওয়াও জরুরি লক্ষণ।
শিশুর পিঠের বাঁক দ্রুত বাড়তে দেখা গেলে অথবা পিঠব্যথার সঙ্গে জ্বর থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
চিকিৎসক দাঁড়ানোর ভঙ্গি, মেরুদণ্ডের নমনীয়তা, হাঁটার ধরন এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা পরীক্ষা করেন। শিশুর ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পর্যায়ও দেখা হয়।
প্রয়োজন অনুযায়ী দাঁড়ানো অবস্থায় মেরুদণ্ডের এক্স-রে দিয়ে বাঁক ও ভারসাম্য মূল্যায়ন করা হয়। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে MRI, CT বা নড়াচড়ার সময় তোলা এক্স-রে প্রয়োজন হতে পারে। সবার সব পরীক্ষা লাগে না।
মেরুদণ্ডের গঠনগত সমস্যায় শরীরের আকৃতির পাশাপাশি স্বাভাবিক বৃদ্ধি, চলাফেরা, ব্যথা ও স্নায়ুর নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালের অর্থোপেডিক ও স্পাইন চিকিৎসাসেবায় এসব বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়।
প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ, নির্দিষ্ট ব্যায়াম ও পুনর্বাসন, নির্বাচিত রোগীর জন্য ব্রেস অথবা সংশোধনী ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর সার্জারি নিয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসার লক্ষ্য ও সীমাবদ্ধতাও রোগী ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।
মেরুদণ্ডের বক্রতা ও অস্থিরতার চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন #
না। অন্য কারণেও এমন হতে পারে। তবে পার্থক্যটি স্থায়ী হলে বা বাড়তে থাকলে পরীক্ষা করানো উচিত।
ব্যায়াম পেশির কার্যক্ষমতা, ভঙ্গি ও কিছু উপসর্গে সাহায্য করতে পারে। তবে সব গঠনগত বাঁক পুরোপুরি সোজা করে না। রোগের ধরন অনুযায়ী পরামর্শ প্রয়োজন।
না। অনেক ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ বা অস্ত্রোপচারবিহীন চিকিৎসা যথেষ্ট। বাঁক বাড়তে থাকা, ভারসাম্যের সমস্যা, স্নায়ুর ক্ষতি ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় সার্জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
না। স্পন্ডাইলোলিসথেসিসে কশেরুকার অবস্থান বদলায়। ডিস্ক প্রলাপ্সে দুই কশেরুকার মাঝের ডিস্কের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে।
নিজের বা সন্তানের পিঠের বাঁক, অসমান কাঁধ কিংবা দাঁড়ানো ও হাঁটার পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ থাকলে সঠিক মূল্যায়নের জন্য পরামর্শ নিন।