Welcome to Bangladesh OrthoCare Hospital LTD.

Get Location

24/7 Emergency

Children’s Orthopedic Conditions

Explore the conditions we treat and learn how our specialists can help

শিশুদের হাড় ও জয়েন্টের সমস্যা: বাঁকা পা, হাঁটার পরিবর্তন ও আঘাত

শিশুর পায়ের পাতা জন্ম থেকেই ভেতরের দিকে বাঁকা? হাঁটার সময় খুঁড়িয়ে চলছে বা এক পা ছোট মনে হচ্ছে? পড়ে যাওয়ার পরে হাত ব্যবহার করছে না? শিশুদের হাড় ও জয়েন্টের সমস্যা বুঝতে বয়স, স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং চলাফেরার পরিবর্তন একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতাল লিমিটেডে শিশুদের জন্মগত পায়ের সমস্যা, হিপের গঠনগত পরিবর্তন, হাত-পায়ের বক্রতা ও ফ্র্যাকচারের মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিশুর অর্থোপেডিক সমস্যায় পরামর্শ নিন #
শিশুদের অর্থোপেডিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন #

কোন পরিবর্তনগুলো খেয়াল করবেন?

  • জন্মের পর পায়ের পাতা ভেতরের দিকে ও নিচের দিকে ঘুরে থাকা।

  • এক পা অন্যটির তুলনায় ছোট মনে হওয়া।

  • হাঁটার সময় খুঁড়িয়ে চলা বা শরীর একদিকে হেলে যাওয়া।

  • পায়ের বাঁক এক পাশে বেশি বা বয়সের সঙ্গে বাড়তে থাকা।

  • জয়েন্ট নাড়াতে ব্যথা বা নড়াচড়া সীমিত হওয়া।

  • আঘাতের পরে হাত ব্যবহার না করা বা পায়ে ভর দিতে না চাওয়া।

শিশুর পায়ের আকৃতির কিছু পরিবর্তন স্বাভাবিক বৃদ্ধির অংশ। তবে একপাশের সমস্যা, ব্যথা, বাড়তে থাকা বক্রতা বা চলাফেরার অসুবিধা থাকলে পরীক্ষা প্রয়োজন।

শিশুদের যেসব অর্থোপেডিক সমস্যা মূল্যায়ন করা হয়

জন্মগত বাঁকা পা (Clubfoot)

ক্লাবফুটে শিশুর পায়ের পাতা ভেতরের দিকে ও নিচের দিকে ঘুরে থাকে। এক বা দুই পায়েই হতে পারে। সাধারণত জন্মের সময়ই বোঝা যায় এবং পা সহজে স্বাভাবিক অবস্থানে আনা যায় না।

শৈশবের শুরুতে ব্যথা না থাকলেও চিকিৎসা ছাড়া পরে পায়ের বাইরের অংশে ভর দিয়ে হাঁটা ও জুতা পরতে অসুবিধা হতে পারে। এটি শুধু পা রাখার অভ্যাসের সমস্যা নয়।

খেয়াল করবেন: শিশু হাঁটা শুরু করবে, তারপর চিকিৎসা করাবেন বলে অপেক্ষা করবেন না। জন্মের পর দ্রুত মূল্যায়ন ও চিকিৎসার পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর হিপ জয়েন্টের বিকাশজনিত সমস্যা (Developmental Hip Dysplasia)

হিপের সকেট যথাযথভাবে তৈরি না হলে উরুর হাড়ের মাথা ঠিকভাবে বসতে পারে না। এতে জয়েন্ট ঢিলা থাকতে পারে বা আংশিক কিংবা পুরোপুরি সরে যেতে পারে।

ছোট শিশুর স্পষ্ট ব্যথা নাও থাকতে পারে। ডায়াপার বদলানোর সময় এক পা পাশের দিকে কম খুলতে পারা বা এক পা ছোট মনে হওয়া নজরে আসতে পারে। হাঁটা শুরু হলে খুঁড়িয়ে চলা দেখা দিতে পারে।

খেয়াল করবেন: সব শিশুর দৃশ্যমান লক্ষণ থাকে না। জন্মের সময় পা বা নিতম্ব আগে থাকা এবং পরিবারে একই সমস্যার ইতিহাস চিকিৎসককে জানান। নিজে পা টেনে বা ঘুরিয়ে পরীক্ষা করবেন না।

হাত-পায়ের বক্রতা ও দৈর্ঘ্যের পার্থক্য (Limb Deformities)

পা ধনুকের মতো বাঁকা, হাঁটু ভেতরের দিকে কাছাকাছি থাকা কিংবা দুই পায়ের দৈর্ঘ্যে পার্থক্য এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। কিছু পরিবর্তন বয়সের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কমে আসে। অন্য ক্ষেত্রে জন্মগত গঠন, হাড়ের বৃদ্ধির সমস্যা, রিকেটস বা পুরোনো আঘাতের ভূমিকা থাকতে পারে।

এক পায়ে বেশি বাঁক, ক্রমশ বাড়তে থাকা পরিবর্তন, ব্যথা বা হাঁটতে অসুবিধা হলে মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ। সব বাঁকা পায়ের জন্য বিশেষ জুতা, ব্রেস বা অপারেশন প্রয়োজন হয় না।

খেয়াল করবেন: শুধু দেখে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি ধরে নেবেন না। শিশুর বয়স, বৃদ্ধির ধরন ও পরীক্ষার ভিত্তিতে কারণ নির্ধারণ করা হয়।

শিশুদের হাড় ভাঙা (Children’s Fractures)

খেলা, দৌড়ানো বা পড়ে যাওয়ার সময় শিশুদের হাড়ে ফাটল বা ভাঙন হতে পারে। সবসময় হাত-পা বাঁকা দেখায় না। ব্যথা, ফোলা কিংবা আহত হাত-পা ব্যবহার করতে না চাওয়াও লক্ষণ হতে পারে।

শিশুর হাড়ে বৃদ্ধি হওয়ার বিশেষ অংশ থাকে, যাকে গ্রোথ প্লেট বলা হয়। এই অংশে আঘাত লাগলে কিছু ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ বৃদ্ধি বা হাড়ের অবস্থানে প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ গুরুত্বপূর্ণ।

খেয়াল করবেন: পড়ে যাওয়ার পরে শিশু হাত নাড়াতে বা পায়ে ভর দিতে না চাইলে জোর করবেন না। মালিশ বা টেনে হাড় বসানোর চেষ্টা না করে পরীক্ষা করান।

কখন দ্রুত চিকিৎসা নেবেন?

  • আঘাতের পরে হাত-পায়ের আকৃতি বদলে গেলে বা খোলা ক্ষত থাকলে।

  • শিশু হঠাৎ হাঁটতে বা পায়ে ভর দিতে না পারলে।

  • জ্বরের সঙ্গে জয়েন্ট ফুলে গেলে বা নাড়াতে তীব্র ব্যথা হলে।

  • হাত-পায়ের আঙুল ঠান্ডা, ফ্যাকাশে, নীলচে বা অবশ হলে।

  • প্লাস্টারের পরে ব্যথা বাড়লে, আঙুল ফুললে বা রঙ বদলালে।

জ্বরসহ খুঁড়িয়ে হাঁটা বা পায়ে ভর না দেওয়া সংক্রমণসহ গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে দ্রুত হাসপাতালে নিন।

শিশুর সমস্যার কারণ কীভাবে নির্ণয় করা হয়?

চিকিৎসক জন্মের ইতিহাস, শিশুর বয়স, বৃদ্ধি, হাঁটা শেখার অগ্রগতি এবং আঘাতের তথ্য জানবেন। এরপর জয়েন্টের নড়াচড়া, পায়ের দৈর্ঘ্য, বক্রতা ও হাঁটার ধরন পরীক্ষা করবেন।

প্রয়োজন অনুযায়ী এক্স-রে, ছোট শিশুর হিপের আল্ট্রাসাউন্ড বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সময়ের ব্যবধানে পুনরায় পরীক্ষা করে বোঝা হয় পরিবর্তনটি স্বাভাবিকভাবে কমছে, নাকি চিকিৎসা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালে শিশুদের হাড় ও জয়েন্টের যত্ন

শিশুর চিকিৎসায় বর্তমান সমস্যা সামলানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বৃদ্ধি, স্বাভাবিক চলাফেরা ও খেলাধুলার সক্ষমতা বিবেচনা করা জরুরি। বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালের অর্থোপেডিক সেবায় শিশুর বয়স ও সমস্যার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়।

প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যবেক্ষণ, ক্লাবফুটের ধারাবাহিক কাস্টিং ও ব্রেস, হিপ ডিসপ্লাসিয়ার চিকিৎসা, ফ্র্যাকচারের প্লাস্টার অথবা নির্বাচিত ক্ষেত্রে সংশোধনী সার্জারি বিবেচনা করা হয়। ফলোআপ ও বাড়িতে যত্নের বিষয়ে অভিভাবকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুদের অর্থোপেডিক চিকিৎসার বিকল্প দেখুন #

সাধারণ প্রশ্ন

শিশুর পা বাঁকা দেখালেই কি রোগ?

না। বয়সভেদে পায়ের কিছু বক্রতা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে এক পাশে বেশি বাঁক, ব্যথা বা বাড়তে থাকা পরিবর্তন থাকলে পরীক্ষা প্রয়োজন।

ক্লাবফুট কি বড় হলে নিজে থেকে ঠিক হয়?

প্রকৃত ক্লাবফুট সাধারণত চিকিৎসা ছাড়া ঠিক হয় না। জন্মের পর দ্রুত মূল্যায়ন করলে উপযুক্ত সময়ে চিকিৎসা শুরু করা যায়।

হিপ ডিসপ্লাসিয়ায় ব্যথা না থাকলেও কি চিকিৎসা দরকার?

মূল্যায়ন প্রয়োজন। ছোট শিশুর ব্যথা না থাকলেও জয়েন্টের গঠনে সমস্যা থাকতে পারে। বয়স ও সমস্যার মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারিত হয়।

শিশুর হাড় দ্রুত জোড়া লাগে বলে কি ফলোআপ বাদ দেওয়া যায়?

না। হাড়ের অবস্থান, জোড়া লাগার অগ্রগতি এবং গ্রোথ প্লেটের অবস্থা দেখতে ফলোআপ প্রয়োজন হতে পারে। ব্যথা কমলেই চিকিৎসা শেষ হয়েছে ধরে নেবেন না।

শিশুর হাঁটা বা হাড়ের গঠন নিয়ে উদ্বেগ আছে?

পায়ের আকৃতি, খুঁড়িয়ে হাঁটা বা আঘাতের পরে চলাফেরার পরিবর্তন দেখলে সঠিক মূল্যায়নের জন্য পরামর্শ নিন।

বাংলাদেশ অর্থোকেয়ার হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন #